[email protected] মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

রোজা রেখে সাপোজিটরি ব্যবহার: শরিয়তের বিধান কী?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৮:১৬ পিএম

রমজান মাসে অসুস্থতা বা তীব্র জ্বরের কারণে অনেক সময় সাপোজিটরি ব্যবহারের প্রয়োজন

 পড়ে। তবে রোজা অবস্থায় মলদ্বারে ওষুধ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে কি না, তা নিয়ে ফকিহ ও আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে এই মতভেদগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:


​১. রোজা ভেঙে যাওয়ার মত (সতর্কতামূলক)
​অনেক ফকিহ মনে করেন, শরীরের স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে যদি পেটে বা মস্তিষ্কে কোনো কিছু প্রবেশ করে, তবে রোজা ভেঙে যায়। যেহেতু মলদ্বার একটি স্বাভাবিক প্রবেশপথ এবং এর মাধ্যমে ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করানো হয়, তাই এই মত অনুযায়ী রোজা ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ওই রোজাটি কাজা করতে হবে, তবে কোনো কাফফারা দিতে হবে না।


​২. রোজা না ভাঙার মত
​আধুনিক অনেক গবেষক ও আলেম মনে করেন, সাপোজিটরি ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয় না। তাদের যুক্তিসমূহ হলো:


​এটি পানাহার নয় এবং পানাহারের বিকল্প হিসেবেও কাজ করে না।
​সাপোজিটরি ব্যবহারের পর তা পুনরায় বেরিয়ে আসতে পারে এবং এটি শরীরে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে না।


​শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এবং শাইখ উছাইমীন (রহ.)-এর মতে, এ ধরনের চিকিৎসায় রোজা নষ্ট হয় না কারণ এর বিপক্ষে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।


​সারকথা ও পরামর্শ
​অধিকাংশ ফকিহদের মতে, একান্ত প্রয়োজন না হলে দিনের বেলা এটি পরিহার করাই উত্তম। তবে যদি কেউ ব্যবহার করে ফেলেন, তবে সাবধানতাস্বরূপ পরবর্তীতে একটি রোজা কাজা করে নেওয়া নিরাপদ। আর যদি অবস্থা এমন হয় যে সাপোজিটরি না দিলে জীবন বা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে, তবে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে এবং পরবর্তীতে রোজাটি কাজা করে নিতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর