[email protected] সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৭ বৈশাখ ১৪৩৩

রমজানের প্রস্তুতি ও ইবাদতের বসন্ত: শাবান মাসের গুরুত্ব ও আমল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:১৪ এএম

হিজরি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান। ইসলামের ইতিহাসে এই মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ

 এটি পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। মুমিন মুসলমানের কাছে শাবান হলো রমজানের প্রস্তুতি এবং ইবাদতের অনুশীলনের মাস।


​রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল ও শিক্ষা
​হাদিস অনুযায়ী, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের পর শাবান মাসেই সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি (সা.) প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা পালন করতেন। তিনি বলতেন, এটি এমন একটি মাস যখন আল্লাহর কাছে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয়; আর তিনি চাইতেন রোজা রাখা অবস্থায় যেন তার আমলনামা পেশ করা হয়।


​শাবান মাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ:


​রমজানের মহড়া: শাবান মাসে নফল রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে মূলত রমজানের কঠিন সিয়াম সাধনার শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
​কাজা রোজা আদায়: আগের বছরের কোনো কাজা রোজা বাকি থাকলে তা এই মাসের মধ্যেই শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


​শবে বরাত বা মধ্য শাবান: এই মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' বা শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। হাদিস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ক্ষমা ও রিজিক প্রার্থনার আহ্বান জানান।


​এ মাসের বিশেষ দোয়া


​রজব ও শাবান মাস শুরু হলে নবীজি (সা.) একটি বিশেষ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন:
​“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান”
(অর্থ: হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।)


​মাসের শেষদিকের সতর্কতা


​রমজান শুরুর ঠিক এক বা দুই দিন আগে থেকে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে রমজানের ফরয রোজার জন্য পূর্ণ শক্তি সঞ্চয় করা যায়। তবে যারা নিয়মিত নির্দিষ্ট দিনে (যেমন সোম বা বৃহস্পতিবার) রোজা রাখেন, তারা তা অব্যাহত রাখতে পারেন।


​আসন্ন রমজানের পবিত্রতা ও ফজিলত অর্জনের জন্য শাবান মাস থেকেই তওবা, ইস্তেগফার এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর