[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

কবরে পানি ছিটানো কি নিষিদ্ধ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:১৯ এএম

দাফনের পর নতুন কবরের মাটি ঠিকভাবে বসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কবরের ওপর পানি ছিটিয়ে


 দেওয়া শরিয়তসম্মতভাবে নিষিদ্ধ নয়। বরং বহু আলেমের মতে, এই উদ্দেশ্যে সামান্য পানি ছিটানো মুস্তাহাব। এতে কবরের মাটি শক্ত হয় এবং কবরটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে, ফলে অবচেতন বা অনিচ্ছাকৃত অবমাননার আশঙ্কা কমে।


হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পুত্র ইবরাহিম (রহ.)-কে দাফনের পর কবরের ওপর পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। (ত্বাবারাণী, আওসাত্ব; মিশকাত; ছহীহাহ; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী)।

তবে কবরের ওপর পানি ছিটানোর ফলে মৃত ব্যক্তি প্রশান্তি লাভ করবেন বা এতে তার কোনো উপকার হবে—এমন বিশ্বাসের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই বলে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন।


যদি কবরের ওপর পানি ছিটানোকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়, নিয়মিত আচার বানানো হয় অথবা এই ধারণা রাখা হয় যে এতে মৃত ব্যক্তির বিশেষ কোনো কল্যাণ হবে—তাহলে তা বিদআত হিসেবে বিবেচিত হবে।


ইসলামের মূল ভিত্তি হলো কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নত—অর্থাৎ তাঁর বাণী, কর্ম ও অনুমোদন। কোরআন ও সুন্নতের বাইরে কোনো আমলকে নতুনভাবে প্রবর্তন করে সেটিকে বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করা হলে তা দীনের মধ্যে নতুন সংযোজন বা বিদআত হিসেবে গণ্য হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে এ ধরনের নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।


রাসুল (সা.) বলেছেন,
“সব নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকো।

নিশ্চয়ই প্রতিটি নতুন উদ্ভাবন বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।”


(তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)
অতএব, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা, দান-সদকা করা এবং কোরআন তেলাওয়াতসহ শরিয়তসম্মত আমলের মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানোই ইসলামের নির্দেশিত ও সর্বোত্তম পদ্ধতি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর