[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৫৮ এএম

আজ মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত—পবিত্র শবে মেরাজ। ‘শব’

 শব্দের অর্থ রাত এবং ‘মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা আরোহন। এই মহিমান্বিত রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ আদেশে তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এক অলৌকিক সফরের মাধ্যমে ঊর্ধ্বলোকে গমন করার সৌভাগ্য লাভ করেন।


ইতিহাস অনুযায়ী, নবী করিম (সা.) এ রাতে আল্লাহর অসীম কুদরতে আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছান, মহান রব্বুল আলামিনের দিদার লাভ করেন এবং উম্মতে মুহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ বিধান নিয়ে একই রাতে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। এ কারণেই শবে মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।


মুসলিম বিশ্ব প্রতিবছর রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতকে শবে মেরাজ হিসেবে পালন করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।


ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, নবুওত প্রাপ্তির একাদশ বছরে (খ্রিস্টাব্দ ৬২০) রজব মাসে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামক বাহনে চড়ে নবীজি (সা.) প্রথমে পবিত্র কাবা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছান। সেখানে তিনি অন্যান্য নবী-রাসুলদের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।


পরবর্তীতে তিনি সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। এ সফরে তিনি জান্নাত, জাহান্নাম ও সৃষ্টিজগতের নানা রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে তিনি আরশে আজিমে পৌঁছে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতিদিন নামাজে আত্তাহিয়্যাতু পাঠের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদী মেরাজের সাক্ষ্য প্রদান করে থাকে। শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য নামাজের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর