জানাজার নামাজে মৃত ব্যক্তিকে অগ্রবর্তী সওয়াবের কারণ, সঞ্চিত নেকির উৎস এবং
কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা হয়। এ সময় যে দোয়াটি পাঠ করা হয়, তা হলো—
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাজ্আলহু লানা ফারতাও ওয়া জ্আলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়া জ্আলহু লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফাআন।
অর্থ:
হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী বানান, তাকে আমাদের নেকি ও সওয়াবের সঞ্চয় করুন এবং তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী ও কবুলযোগ্য সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করুন।
এরপর ইমাম যখন চতুর্থ তাকবির বলেন, তখন
মুসল্লিরাও হাত না তুলে তাকবির বলবেন। এই তাকবিরের পর আলাদা কোনো দোয়া নেই। বরং ইমামের সঙ্গে প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করতে হয়।
ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জানাজার নামাজে কেবল প্রথম তাকবিরের সময় হাত ওঠানো সুন্নত। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তাকবিরে হাত ওঠানো হয় না। প্রথম তাকবিরের পর অন্যান্য নামাজের মতোই নাভির ওপর হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
চতুর্থ তাকবিরের পর হাত ছাড়ার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি গ্রহণযোগ্য মত রয়েছে।
একদল আলেম মনে করেন, চতুর্থ তাকবির বলার পরপরই হাত ছেড়ে দেওয়া যায়। অন্য দল বলেন, ডানে ও বামে উভয় সালাম শেষ করার পর হাত ছেড়ে দেওয়া উত্তম। যেহেতু উভয় মতই সহিহ, তাই যে কোনো একটি মত অনুসরণ করে আমল করা বৈধ।
ইসলামী শরিয়তের আলোকে জানাজার নামাজ মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর ক্ষমা, দয়া ও রহমত কামনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই জানাজার নামাজের নিয়মকানুন ও দোয়াগুলো সঠিকভাবে জানা এবং যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এসআর
মন্তব্য করুন: