[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

জাকাত কাকে দেওয়া যায়, কাকে দেওয়া যায় না

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:০৬ এএম

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি হলো জাকাত। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে


 নামাজের সঙ্গে জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। জাকাত মানুষের অন্তরকে সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও লোভ থেকে মুক্ত করে এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। ইসলামে জাকাত কারা পাবে এবং কারা পাবে না—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।


কাদের জাকাত দেওয়া যাবে
সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত আট শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন—
১. ফকির


যাদের জীবিকা নির্বাহের মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই বা খুব সামান্য আছে।


২. মিসকিন
যাদের কোনো সম্পদই নেই এবং যারা চরম অভাবের মধ্যে জীবনযাপন করেন।


৩. আমেল (জাকাত সংগ্রহকারী)
ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যারা জাকাত সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তারা জাকাতের অর্থ থেকে পারিশ্রমিক পেতে পারেন। তবে বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কমিশন ভিত্তিক জাকাত সংগ্রহ শরিয়তসম্মত নয়।


৪. নব্য মুসলিম বা ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি
যাদের ঈমান দৃঢ় করার প্রয়োজন রয়েছে অথবা যারা ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী।


৫. দাস মুক্তির খাতদাস-দাসী মুক্ত করার জন্য জাকাত দেওয়ার বিধান ছিল, তবে বর্তমান সময়ে এই খাত কার্যত নেই।


৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিযারা ঋণ পরিশোধ করার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন না।


৭. আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তিঅধিকাংশ

আলেমের মতে, এখানে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত মুজাহিদদের বোঝানো হয়েছে—যাদের কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই।


৮. বিপদগ্রস্ত মুসাফির

কোনো ব্যক্তি সফরের সময় সম্পদ হারিয়ে ফেললে, ঘরে ফেরার প্রয়োজনীয় খরচ জাকাত থেকে দেওয়া যেতে পারে—যদিও নিজ এলাকায় তিনি সম্পদশালী হন।

কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না


১. অমুসলিম বা কাফিরকে।


২. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে।


৩. নিসাবের মালিক ব্যক্তির নাবালক সন্তানকে।


৪. বনু হাশেম গোত্রের সদস্যদের।


৫. নিজের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ ঊর্ধ্বতন আত্মীয়দের।


৬. নিজের সন্তান, নাতি-নাতনি ও অধস্তন বংশধরদের।


৭. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারবেন না।


৮. মসজিদ, মাদরাসা, সেতু, রাস্তা, হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা মৃত ব্যক্তির দাফনের কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।


তবে সহোদর ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, ফুফু-ফুফা, খালা-খালু—এরা যেহেতু

জাকাতদাতার মূল (উসুল) বা শাখা (ফুরু) নন, তাই তারা জাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে তাদের জাকাত দেওয়া বৈধ।


এছাড়া জাকাতের অর্থ দিয়ে কাউকে কাপড় বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও জাকাত আদায় হয়ে যায়। এমনকি মুখে না বললেও মনে মনে জাকাতের নিয়ত করে দিলে তা সহিহ হিসেবে গণ্য হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর