নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতকারীদের মর্যাদা
ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে কোরআন পাঠকারীদের আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—কোরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত (ইবনে মাজাহ)।
ইসলামী শিক্ষায় কোরআনের মুদ্রিত কপি বা মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত করাকে অধিক উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। কারণ এতে কোরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, সরাসরি কোরআনের লিখিত রূপ স্পর্শ করা হয় এবং সাধারণত অজুসহ তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে ওঠে। পাশাপাশি মুসহাফ দেখে পড়লে আয়াতের অর্থ ও মর্ম অনুধাবনে মনোযোগী হওয়া সহজ হয়।
তবে কেউ যদি মোবাইল ফোন, ট্যাব বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে কোরআন দেখে তিলাওয়াত করেন, তাহলেও তিনি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন না। আলেমদের মতে, কাগজে মুদ্রিত কোরআন এবং স্ক্রিনে প্রদর্শিত কোরআনের মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর বাণী পাঠ ও তার দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়, যা নিজেই ইবাদত।
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মাজমু–তে উল্লেখ করেছেন, মুখস্থ তিলাওয়াতের তুলনায় মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত অধিক উত্তম। কারণ এতে তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের লিখিত রূপের দিকে তাকানোর ইবাদতও যুক্ত হয়, যা একটি স্বতন্ত্র সওয়াবের কারণ।
সুতরাং সুবিধা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী মোবাইলে কোরআন তিলাওয়াত করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। তবে সম্ভব হলে আদব ও মনোযোগের সঙ্গে মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত করাই অধিক ফজিলতপূর্ণ।
এসআর
মন্তব্য করুন: