[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

আজওয়া খেজুর কালো হয় কেন?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ৩:০৫ পিএম

আজওয়া খেজুর মুসলিম সমাজে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি ফল।

সহিহ হাদিসে এই খেজুরকে যাদু ও বিষের ক্ষতি থেকে রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অনেকেই একে ব্যতিক্রমী গুণসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। আজওয়া খেজুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক ঘটনা।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে পারস্য থেকে মদিনায় আগমন করেন।

ইসলামের প্রাথমিক সময়গুলোতে তিনি দাসত্বে আবদ্ধ ছিলেন। সে কারণে বদর ও উহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। সে সময় তিনি একজন ইহুদির অধীনে দাস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে ইহুদি মালিক সালমান ফারসি (রা.)-এর সামনে দুটি কঠিন শর্ত আরোপ করে। প্রথমত, অল্প সময়ের মধ্যে ৬০০ দিনার পরিশোধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, একই সময়ের মধ্যে ৩০টি খেজুর গাছ রোপণ করে তাতে ফল ধরাতে হবে। বাস্তব দৃষ্টিতে এই শর্ত পূরণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব।
বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানানো হলে তিনি নিজ উদ্যোগে ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করেন।

এরপর হজরত আলী (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে ওই ইহুদির কাছে যান। ইহুদি একটি খেজুরের কাঁদি দিয়ে জানায়, এই খেজুর থেকেই চারা উৎপন্ন করে ফল ধরাতে হবে। কিন্তু রাসুল (সা.) লক্ষ্য করলেন, খেজুরগুলো আগুনে পুড়িয়ে কালো করে ফেলা হয়েছে, যাতে সেগুলো থেকে চারা গজাতে না পারে।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে গর্ত খননের নির্দেশ দেন এবং সালমান ফারসি (রা.)-কে পানি আনতে বলেন। আলী (রা.) গর্ত তৈরি করলে রাসুল (সা.) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপণ করেন। সালমান ফারসি (রা.) পানি দিতে থাকেন।

রাসুল (সা.) তাকে নির্দেশ দেন—বাগানের শেষ প্রান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত যেন তিনি পেছনে ফিরে না তাকান। নির্দেশ অনুযায়ী তিনি সামনে এগোতে থাকেন। শেষ প্রান্তে পৌঁছে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, আল্লাহর অপার কুদরতে প্রতিটি গাছ ফলভর্তি হয়ে উঠেছে।
এই পোড়া খেজুর থেকেই গজানো গাছের ফল পাকলে তা কালো রঙ ধারণ করে। যেহেতু মূল খেজুরগুলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো ছিল, তাই ফলের রঙ, স্বাদ ও গন্ধেও তার প্রভাব দেখা যায়। এভাবেই আজওয়া খেজুরের কালো রঙের উৎপত্তি ঘটে বলে বর্ণিত আছে।

আজওয়া খেজুর পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান ও জনপ্রিয় খেজুর হিসেবে পরিচিত। স্বাদ, ঘ্রাণ ও মর্যাদার দিক থেকে এটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর