[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

মানুষ কি ফেরেশতাকে দেখতে পারে?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৪১ এএম

ফেরেশতা আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ ও রহস্যময় সৃষ্টি। ইসলামী

আকিদা অনুযায়ী, তারা সাধারণত মানুষের দৃষ্টির বাইরে থেকে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করেন। কোরআন ও হাদিসে ফেরেশতাদের দায়িত্ব, জীবনধারা এবং নবী-রাসুলদের কাছে তাদের আগমনের বহু বিবরণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে হজরত জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর ওহি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—নবী ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষেও কি ফেরেশতাকে দেখা সম্ভব? কোরআনের বিভিন্ন ঘটনার আলোকে আলেমদের মতে, মানুষের জন্য ফেরেশতাকে দেখা অসম্ভব নয়। তবে এ দেখা সাধারণত ফেরেশতাদের প্রকৃত রূপে নয়; বরং মানুষের আকৃতিতে হয়ে থাকে।
কোরআনে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা হজরত মারইয়াম (আ.)-এর কাছে হজরত জিবরাঈল (আ.)-কে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের রূপে পাঠিয়েছিলেন। সে সময় মারইয়াম (আ.) প্রথমে তাকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই দেখেছিলেন।
একইভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে কয়েকজন ফেরেশতা মানুষের বেশে উপস্থিত হন। তিনি তাদের আপ্যায়নও করেন, কিন্তু শুরুতে বুঝতে পারেননি যে তারা ফেরেশতা। পরে তারাই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।
হজরত লুত (আ.)-এর কাছেও ফেরেশতারা সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে আগমন করেন। তাদের দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ তার কওমের চরিত্রগত অবক্ষয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন। কোরআনে এই ঘটনাও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এসব ঘটনার ভিত্তিতে ইসলামী চিন্তাবিদদের অভিমত হলো—মানুষ জাগ্রত অবস্থায় কিংবা স্বপ্নে ফেরেশতাকে দেখতে পারে। তবে কেউ যদি এমন দাবি করে যে তিনি নিশ্চিতভাবে ফেরেশতাকেই দেখেছেন, তা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কারণ ফেরেশতাকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার বিষয়টি আল্লাহর ওহি ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না। এমনকি ইব্রাহিম (আ.) ও লুত (আ.)-এর মতো নবীরাও প্রথমে ফেরেশতাদের চিনতে পারেননি। তাই সাধারণ মানুষের জন্য এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর