[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

শীতকালে গোসল ছাড়া নামাজ পড়া যাবে?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:৫০ এএম

শীতের সময় ঠান্ডাজনিত অসুবিধা, অসুস্থতা বা অন্যান্য কারণে

অনেকেই নিয়মিত গোসল করতে পারেন না। কেউ কেউ কয়েক দিন বা এক সপ্তাহ পর পর গোসল করেন। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—গোসল না করলে কি নামাজ আদায় করা সহিহ হবে?
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, যদি কোনো ব্যক্তির শরীর অপবিত্র না থাকে এবং তার ওপর গোসল ফরজ না হয়, তাহলে শুধু অজু করেই নামাজ আদায় করা বৈধ। শীতকালে নিয়মিত গোসল না করা নিজে নিজে নামাজের জন্য কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। শরীর পবিত্র থাকলে গোসল ছাড়াও নামাজ শুদ্ধভাবে আদায় হয়ে যায়।
তবে যদি কারো ওপর গোসল ফরজ হয়ে যায়—যেমন জানাবত অবস্থায় থাকা—তাহলে গোসল ছাড়া নামাজ আদায় করা বৈধ নয়। কেবল শীত বা ঠান্ডার অজুহাতে ফরজ গোসল বাদ দিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ ইসলামে নেই।
এ কথাও মনে রাখতে হবে, শীতের কারণে গোসল করতে কষ্ট হওয়াকে নামাজ ত্যাগের গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে ধরা যায় না। নামাজ কোনো অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তবে যদি বাস্তবিকভাবে পানি ব্যবহার করলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এমনকি গরম পানিও ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তাহলে শরিয়ত সহজ পথ দেখিয়েছে। সে ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নেওয়া যাবে এবং বাকি অংশের জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে।
ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ। অনেক আলেমের মতে, জেনে-শুনে নামাজ ছেড়ে দেওয়া ঈমানের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কেউ যদি অবহেলায় নামাজ ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং ভবিষ্যতে নামাজের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়া।
ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। শীত, অসুস্থতা বা কষ্ট—সব পরিস্থিতির জন্যই শরিয়তে বিকল্প বিধান রাখা হয়েছে, যেমন তায়াম্মুম। তাই কোনো অজুহাতে নামাজ পরিত্যাগ না করে আল্লাহ প্রদত্ত সহজ সমাধান গ্রহণ করাই একজন মুমিনের সঠিক পথ।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর