বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন অভিযোগকারী তরুণী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি চলতি বছরের মে মাসে এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর ভুক্তভোগী বিয়ের দাবি জানালে অভিযুক্ত প্রথমে সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় তার স্বজনদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়ার পর তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
W কুমিল্লা জেলা পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এক নারীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় ধর্ষণ, প্রতারণা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
এসআর