[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

সুদ’ নয়, এটি নির্বাচনী ফরমের আইনগত বাধ্যবাধকতা: তাহেরীকে ঘিরে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২:২০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে ‘সুদ গ্রহণ’-সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

দলটির দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভুল ব্যাখ্যা ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তাহেরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মিডিয়া সেলের পক্ষে দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাকিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নির্বাচনী হলফনামার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় ‘আয়ের উৎস’ শিরোনামে একটি নির্দিষ্ট কলামে শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ও সুদ—এই পাঁচটি খাত একত্রে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেখানে আলাদা করে কোনো একটি খাত বাছাই বা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। ফলে উল্লিখিত খাতগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে নির্ধারিত ঘরে সম্মিলিত মোট অঙ্ক উল্লেখ করাই আইনসম্মত পদ্ধতি।


বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট জানায়, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ওই কলামে ২২ হাজার ৮৯২ টাকা আয় দেখিয়েছেন, যা শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র অথবা ব্যাংক আমানত থেকে আসা আয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই, প্রামাণ্য দলিল বা আইনি অনুসন্ধান ছাড়াই শুধু ‘সুদ’ শব্দটি আলাদা করে তুলে ধরে এটিকে সুদের আয় হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক ও বিভ্রান্তিকর।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আমানত থাকলে ‘মুনাফা’, ‘ইন্টারেস্ট’ কিংবা ‘সুদ’—যে নামেই হোক না কেন—একটি নির্দিষ্ট অর্থ যুক্ত হয়, যা একটি প্রচলিত আর্থিক বাস্তবতা। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা আইনগত ও নৈতিকভাবে অনুচিত।


ইসলামী ফ্রন্টের অভিযোগ, একই ধরনের আয়ের তথ্য দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও তাদের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অথচ তাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্নবিদ্ধ বা আক্রমণাত্মক প্রচার না চালিয়ে কেবল মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নামকে লক্ষ্য করে বিশেষ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।


আবদুল হাকিম বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন বা অসম্পূর্ণ থাকলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণে আইন মেনে আয় উল্লেখ করাকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত এবং আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও মানহানিকর উপস্থাপনার মাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থি।

প্রয়োজনে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর