রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন জামায়াত নেতা ও হোমিও চিকিৎসক আনোয়ারুল্লাহ।
গভীর রাতে বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। এ সময় হামলাকারীরা আট ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সাধারণ চুরি নয়; এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে।
প্রায় দুই ঘণ্টা তারা বাসার ভেতরে অবস্থান করার পর বেরিয়ে যায়।
যে পথ দিয়ে তারা ঢুকেছিল, সেটিকেই মূল প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা নিশ্চিতভাবে আনোয়ারুল্লাহর মৃত্যু ঘটানোর পরই বাসা ত্যাগ করে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা বলেন, এভাবে গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে মানুষ খুন হলে তো সবাই অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
নিহত আনোয়ারুল্লাহ স্ত্রীসহ ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে স্বামী-স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে আনোয়ারুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর তারা স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়।
আরেক প্রতিবেশী বলেন, হঠাৎ হৈচৈ শুনে বাইরে এসে দেখি মানুষ জড়ো হয়েছে, পুলিশও এসেছে। পুলিশ কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না।
নিহতের ভাতিজা জানান, হত্যার আগে হামলাকারীরা আনোয়ারুল্লাহকে কালেমা পড়তে বলে। তিনি নিজেই কালেমা পড়বেন বলে জানান এবং সামান্য পানি পান করেন। এরপর তাকে হত্যা করে তারা চলে যায়।
নিহত আনোয়ারুল্লাহ হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
একজন রাজনৈতিক সহকর্মী বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এভাবে গ্রিল কেটে ঢুকে পড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি চুরি না কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
ডিএমপির ডিবি (মিডিয়া) শাখার কর্মকর্তা তালেবুর রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, আনোয়ারুল্লাহ এলাকায় একজন মানবিক ও সেবাপ্রবণ চিকিৎসক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: