চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জানে আলম (৫০) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিকদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জানে আলম পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের শিকদার ঘাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রয়াত হামদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ধারণা, এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা জানান, জানে আলম সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি রাউজানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে রাউজান উপজেলায় মোট ১৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি ছিল রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একই সময়ে অন্তত ৩২টি গোলাগুলির ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতায় রাউজানের একাধিক এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বর, অক্টোবর, জুলাই ও এপ্রিল মাসে এসব ঘটনায় যুবদল নেতাকর্মীসহ কয়েকজন নিহত ও আহত হন।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: