[email protected] মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৮ বৈশাখ ১৪৩৩

তারেক রহমানের বিপরীতে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪১ এএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনকে ঘিরে শুরুতে বিএনপির মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থের প্রার্থী হওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ আসন ভোলা-১ থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন।

এর ফলে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হন তারেক রহমান।

এদিকে একই আসনে নতুন করে প্রার্থীর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন কামরুল হাসান নাসিম। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)–এর ডা. মতিন অংশের হয়ে কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন নেওয়ার বিষয়টি তিনি ঢাকা মেইলকে নিশ্চিত করেছেন।


উল্লেখ্য, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ২৮ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ. এন. এম সিরাজুল ইসলাম এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাফর আহমেদ জয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে তারেক রহমানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে ঢাকা-১৭ আসন থেকে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ডা. এস. এম. খালিদুজ্জামান, যিনি বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবার তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলেন কামরুল হাসান নাসিম।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৭ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১৭ জন।

বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বাইরে উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি (আনিসুল-মঞ্জু) নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী তপু রায়হান, যিনি জহির রায়হানের ছেলে, পাশাপাশি কামরুল হাসান নাসিমসহ আরও কয়েকজন। তবে তাদের অধিকাংশই জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত নন।

এর আগে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী তাজনূভা জাবীনের নাম সামনে এলেও দলীয় ভাঙনের প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
কামরুল হাসান নাসিম অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন।

তিনি ‘গড়বো বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র ছিলেন।

২০১৫ সালে বিএনপি পুনর্গঠনের দাবিতে ‘আসল বিএনপি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন, যা নিয়ে সে সময় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরোধিতার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।
দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে তুলনামূলক নীরব থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তারেক রহমানের মতো প্রভাবশালী নেতার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুর কারণে শ্রদ্ধা ও শোকের জায়গা থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচারে আনেননি।

তিনি বলেন, ‘এই শোক আমাদের সবার। তবে ঢাকা-১৭ আমার পরিচিত এলাকা। এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। সে কারণেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর