সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। ফলে তারাও নবম পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
একই তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়ে আলাদা কোনো সরকারি আদেশ জারি করা হবে কি না—এ প্রশ্নে মন্তব্য করেননি অর্থ বিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং এর বাইরে ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ১ হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা কার্যকর করতে আলাদা আদেশ জারি করেছিল অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ।
এমপিও ব্যবস্থার আওতায় থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি বড় অংশ সরকার আর্থিক অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের শতভাগের পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা পান। গত বছর তাদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে মাসে বাড়িভাড়া হিসেবে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো।
দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল।
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত। সংশ্লিষ্ট এমপিও নীতিমালায় ‘বেতন স্কেল’ বলতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এবং পরবর্তী সময়ে সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলকে বোঝানো হয়েছে।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তখন তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি পরে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
এসআর