[email protected] বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে ইউনিটপ্রতি নতুন চার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট ২০২৬ ৯:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যয়ের সঙ্গে নতুন একটি চার্জ যুক্ত হতে যাচ্ছে।

আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’ (এসএনএ) চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।


পরিমাণে অল্প হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করলে এ চার্জের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


চুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন করতে বিলম্ব হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় চার্জ


বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য শুরুতে প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবেদনের পর তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।


ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি তৈরি, মিটার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।


ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা
চুক্তিগুলোর আওতায় ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।


অন্যদিকে, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে এনভিভিএন ও বিপিডিবির মধ্যে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এর বাইরে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতেই এ ধরনের চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ওই বিদ্যুতের জন্য পৃথক এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন নেই।


বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যয় শুধু বিদ্যুতের মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। এবার যুক্ত হচ্ছে এসএনএ চার্জ।


২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল দাম বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।


এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের কাছ থেকে প্রায় ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।


এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য এর বাইরে ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জও দিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ওই চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নতুন এসএনএ চার্জ যুক্ত হলে ভবিষ্যতে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর