রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হাসপাতালটির ফায়ার লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি প্ল্যানও অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর হাসপাতালটির অগ্নি নিরাপত্তা সনদ নবায়নের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ফায়ার সেফটি পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা দাখিল এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট আইন ও ভবন নির্মাণবিধি অনুযায়ী, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এসব শর্ত পূরণ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির কার্যক্রম নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তও এগিয়ে চলছে।
ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনা ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
এসআর