[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বৈশাখের ডাকে জেগেছে বাঙালির প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যেও নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বাঙালির সর্বজনীন উৎসব—পহেলা বৈশাখ।

পুরনো বছরের ক্লান্তি, দুঃখ-গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবনকে সাজানোর আহ্বান জানায় এই দিন।


আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। বাংলা নববর্ষ শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পুনর্জাগরণের প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি নতুন শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্যে উদযাপিত হচ্ছে।


রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নানা আয়োজনে উদ্‌যাপিত হচ্ছে নববর্ষ। রঙিন পোশাক, পান্তা-ইলিশ, বৈশাখী মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। মানুষের মাঝে বইছে উৎসবের আনন্দধারা।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তাঁরা এই দিনকে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন।


অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান-ও দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


ভোর থেকেই রাজধানীর রমনা উদ্যান এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সেখানে ছায়ানট-এর আয়োজনে বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সঙ্গীত, কবিতা ও দেশাত্মবোধক পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির সংস্কৃতি।


সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। লোকজ মোটিফ, গান ও রঙিন সাজে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় ফিরে আসে।


এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নববর্ষ উপলক্ষে কয়েকদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে। গান, নৃত্য, নাটক, লোকসংগীতসহ নানা পরিবেশনায় জমে উঠেছে উৎসবের আবহ।


ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’, যেখানে দেশজুড়ে আগত শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বসেছে বৈশাখী মেলা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ প্রদর্শিত হচ্ছে।


বাংলা নববর্ষের ইতিহাসও দীর্ঘ। মুঘল সম্রাট আকবর-এর আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সহজ করতে বাংলা সনের প্রচলন হয়। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।


সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির মিলনমেলা—যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে নতুন বছরের স্বাগত জানায়।

নতুন বছরের এই সূচনায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাই সবার।

এসআর

সম্পর্কিত খবর