[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ের চিন্তা: সরকারি চাকরিতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬ ৮:১৬ এএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে।

জ্বালানি সরবরাহে চাপ ও ব্যয় বৃদ্ধির পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সাশ্রয়ী উদ্যোগ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় আনতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা কিংবা অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার মতো বিকল্প ব্যবস্থাও ভাবা হচ্ছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব সরকারি দপ্তরকে নিজস্ব প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশ আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষা খাতেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জ্বালানি সাশ্রয়ে পূর্বের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন তদারকিতে প্রতিটি অফিসে একটি নজরদারি দল (ভিজিল্যান্স টিম) গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে, যা তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই রুটে কোনো সমস্যা তৈরি হলে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়ে।


বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ছে এবং সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর