বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০১১ সালে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন এখন দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে।
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যাচের একজন সদস্য হিসেবে শপথ নেন ২১ বছর বয়সী আরফান হোসেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি কর্তৃক আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরবর্তীতে লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। সে সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
আরফান হোসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা।
এই এলাকাতেই ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান তার বড় বোন ফেলানী খাতুন। সেই ঘটনার নৃশংস ছবি দেশ ও দেশের বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল।
শিক্ষাজীবনে আরফান ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আবেদন করেন এবং প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রায় চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই পরিশ্রমের ফল হিসেবেই আজ তিনি বিজিবির সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।
কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান। তিনি বলেন, সীমান্তে আমার বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেই দৃশ্য আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমি চাই না আর কোনো মা-বাবা এভাবে সন্তান হারাক। একজন সীমান্তরক্ষী হিসেবে আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।
তিনি আরও জানান, বোন হত্যার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ছয়-সাত বছর। সেই ঘটনার পর থেকেই তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল তিনি যেন দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন এবং আজ বিজিবিতে যোগ দিতে পেরেছেন।
ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও পরিবারের কাছে ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে আছে। ছোট ভাই আরফান হোসেনের এই অর্জন যেন দীর্ঘদিনের বেদনার ভেতর এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেশের সীমান্ত রক্ষার মধ্য দিয়েই আরফান একদিন তার শহীদ বোনের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: