[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

শেষ চার মাস আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি - মাহফুজ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, সরকারের দায়িত্বে থাকার শেষ চার মাসে তাকে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ধারার গণমাধ্যম বিকাশে উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি’ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মাহফুজ আলম বলেন, সরকারে থাকাকালীন তারা নতুন প্রজন্মবান্ধব ও স্বাধীনচেতা গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ের কিছু গণমাধ্যম অভ্যুত্থান ও তরুণদের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। এর ফলেই পরিকল্পিতভাবে তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।


তিনি আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করা, যেখানে একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম নেতৃত্বে আসবে। তবে কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। এ ধরনের অবস্থান তাদের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নিজের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, অনেকে এখন পিছনের দিকে হাঁটার পথ বেছে নিয়েছেন, যা আন্দোলনকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলবে। কোথায় ভুল হয়েছে, তা নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার ভেতরে থেকে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।

এমনকি বিচার ও তদন্ত কার্যক্রমকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মাহফুজ আলম বলেন, যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা জীবিত রাখার জন্য তিনি ব্যক্তি ও সম্মিলিত পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে নতুন কোনো প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর কাছে আত্মসমর্পণ করলে বিকল্প রাজনীতির ধারণাটিই অর্থহীন হয়ে পড়বে।


অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সভায় যোগ দিতে পারেননি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর