ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ভূমধ্যসাগরে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট গত ১২ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গুরুদাস বাড়ৈ (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮) নামের দুইজনকে আটক করে। অভিযানে গুরুদাস বাড়ৈকে দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য এবং মামলার এজাহারভুক্ত মূল পাচারকারীদের নির্দেশনায় অর্থ সংগ্রহ ও লোক জোগাড়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের প্রতিটি ধাপে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে পাচারকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা আদায় করে বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।
নৌকাডুবির পর চারজনের মরদেহ গ্যাবস ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল এবং বাকি চারজনের মরদেহ ডিজেরবা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরবর্তীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী (৫৯) ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই মানবপাচার চক্রের এই দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: