রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাস্তবায়নগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বড় পরিসরে কাটছাঁট করা হয়েছে।
সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) থেকে মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর এনইসি অনুমোদিত আরএডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, নতুন বরাদ্দের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণনির্ভর অংশ ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকারি অর্থায়নে ১৬ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
কাটছাঁটের তালিকায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে কয়েকটি মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি-১) প্রকল্প। চলমান এডিপিতে যেখানে এই প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল, সেখানে সংশোধিত পরিকল্পনায় তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ বরাদ্দ বাতিল হয়েছে।
বরাদ্দ হ্রাসের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পে আগে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা করা হয়েছে, ফলে প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ কমেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বড় ধরনের কাটছাঁট এসেছে। আগের বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে ৪২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এতে প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে।
একই হারে কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি-৫) প্রকল্পেও। এখানে আগের ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে বরাদ্দ নেমে এসেছে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকায়।
অন্যদিকে, মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ কিছুটা কমানো হয়েছে। ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা প্রায় ২৪ শতাংশ হ্রাস।
এ ছাড়া হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ শতাংশ অর্থ কমেছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: