আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে
দেশের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজন করা হলে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব—এমন মত প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে উৎসবের কিছু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্তমান বিশ্বে দ্বন্দ্ব ও বিভাজনের মধ্যে সংস্কৃতিই মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বিভিন্ন দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র উৎসবে পরিবেশভিত্তিক চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এ ধরনের অন্তত কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য তিনি আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী এই উৎসব ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ক্রোয়েশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিওপেং।
উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত ‘উ জিন ঝি লু’ (দ্য জার্নি টু নো এন্ড)।
এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, শিশু চলচ্চিত্র, নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন বিভাগ। পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট, স্ক্রিনপ্লে ল্যাব, মাস্টারক্লাস ও শিল্প প্রদর্শনী।
এসআর
মন্তব্য করুন: