[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

মস্তিষ্কের জটিলতা কমাতে হাঁটার গুরুত্ব জানুন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৩২ এএম

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কাজের পাহাড়সম চাপ আর পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই এখন ‘মেন্টাল ফগ’ বা মানসিক অস্পষ্টতায় ভুগছেন। মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ আর স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার

 মতো সমস্যায় যখন নাভিশ্বাস দশা, তখন এর এক অতি সাধারণ অথচ কার্যকর সমাধানের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা— আর তা হলো নিয়মিত হাঁটা।

​হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ডা. অ্যামি শাহ-এর মতে, জিমে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম না করেও মস্তিষ্কের ধার বাড়ানো সম্ভব। তার গবেষণালব্ধ তথ্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

​হিপোক্যাম্পাসের বৃদ্ধি: সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন মাত্র ৪০ মিনিট করে হাঁটলে মস্তিষ্কের 'হিপোক্যাম্পাস' অংশটি আকারে বড় হতে শুরু করে। এই অংশটি মূলত স্মৃতিশক্তি এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষমতার জন্য দায়ী।

​বয়সজনিত ক্ষয় রোধ: সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে হিপোক্যাম্পাস সংকুচিত হতে থাকে, যা মানুষকে ভুলোমনা করে তোলে। নিয়মিত হাঁটা এই প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয়।

​হাঁটা কেবল পায়ের ব্যায়াম নয়, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ রসায়নকেও শান্ত রাখে:

​কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ: হাঁটা শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন 'কর্টিসল' কমাতে সাহায্য করে।

​নারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব: মাঝবয়সে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নারীরা সহজেই মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত হাঁটা এই চাপ সামলানোর ক্ষমতা বাড়ায়।

​প্রকৃতির ছোঁয়া: বদ্ধ ঘরের চেয়ে গাছপালা ঘেরা খোলা জায়গায় বা পার্কে হাঁটলে তা দ্রুত মেজাজ ভালো করতে এবং মানসিক প্রশান্তি আনতে সাহায্য করে।

​জীবনযাত্রায় বড় কোনো ওলটপালট না করে কেবল হাঁটার মতো একটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ মস্তিষ্কের চাবিকাঠি। শরীর ও মন—উভয়কে সতেজ রাখতে বড় কোনো পদক্ষেপের চেয়ে ছোট এই ধারাবাহিক অভ্যাসটিই দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর