[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল কেন এত দামি, কোথায় চাষ হয়?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:১১ এএম

লাল ও সবুজ আপেলের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত হলেও বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এমন একটি


 আপেল পাওয়া যায়, যার রং এতটাই গাঢ় যে এক নজরে কালো বলে মনে হয়। এই ব্যতিক্রমী ফলটির নাম ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল। বিরলতা, আকর্ষণীয় রং ও পুষ্টিগুণের কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আপেলগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে শুধু সৌন্দর্য নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও এর গুরুত্ব কম নয়।


কোথায় উৎপাদন হয় এই আপেল?


ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল মূলত হুয়া-নিউ জাতের একটি বিশেষ প্রজাতি, যা রেড ডেলিশাস আপেলের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই আপেল চাষ হয় চীনের তিব্বত অঞ্চলের নিয়িংচিতে, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় এর উৎপাদন হয়। পাহাড়ি এলাকার তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও দিন-রাতের বড় তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে আপেলের খোসা গাঢ় বেগুনি থেকে প্রায় কালো রঙ ধারণ করে। বাইরের রং কালচে হলেও ভেতরের শাঁস সাদা এবং স্বাদে অন্যান্য আপেলের তুলনায় বেশি মিষ্টি। বিরলতা ও আকর্ষণীয় চেহারার কারণে একটি ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেলের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল খাওয়ার উপকারিতা


অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ:


এই আপেলের গাঢ় রঙের পেছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতেও এটি কার্যকর।


হজমে সহায়ক:


উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার কারণে ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।


রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:


ভিটামিন সি ও নানা উদ্ভিজ্জ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই আপেল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। নিয়মিত গ্রহণে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ক্ষত সারতেও সহায়তা করে।


হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:


এই আপেলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রক্তনালিকে সুরক্ষা দেয়। ফলে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা কমতে পারে।


কীভাবে খাবেন?


ব্ল্যাক ডায়মন্ড আপেল সবচেয়ে ভালো কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়, এতে এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। চাইলে সালাদে কুচি করে, চিজ ও বাদামের সঙ্গে বা বিভিন্ন ডেজার্ট—যেমন টার্ট ও পাই—তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। স্মুদি বা সামান্য মধু যোগ করেও খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু এটি অত্যন্ত বিরল ও দামি, তাই প্রতিদিন নয়—বিশেষ উপলক্ষেই উপভোগ করাই বেশি প্রচলিত।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর