[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

শীতে কলা খেলে যা ঘটে শরীরে

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৪৩ এএম

শীতকালে বাজারে নানা মৌসুমি ফলের পাশাপাশি সারা বছর পাওয়া যায় এমন ফলের


 মধ্যেও কলা অন্যতম। পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও অনেকেই শীতে কলা খেতে দ্বিধায় থাকেন। কারও ধারণা, শীতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগে বা সর্দি-কাশি বাড়ে। কিন্তু এই ধারণা কতটা সত্য? শীতে কলা খেলে শরীরে আসলে কী প্রভাব পড়ে—তা জেনে নেওয়া জরুরি।

শীতে কলা খাওয়া কি নিরাপদ?


পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে কলা খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়। বরং সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে খেলে এটি শরীরের জন্য বেশ উপকারী। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম ও পর্যাপ্ত ফাইবার—যা শীতকালে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

শীতে কলা খাওয়ার উপকারিতা 


দ্রুত শক্তি জোগায় শীতের সময় শরীরে ক্লান্তি ও অলসভাব বেশি দেখা যায়। কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা খুব দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়। সকালের নাশতায় একটি কলা দিনভর চাঙা থাকতে সহায়তা করে।

হজমে সহায়ক

শীতকালে ভারী ও মসলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলার ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে


কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা শীতের বিরূপ প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়


শীতকালে সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব


শীতের বিষণ্ণতা বা ‘উইন্টার ব্লুজ’ দূর করতে কলা উপকারী। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কারা কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন যারা

সাইনাস, অ্যাজমা বা তীব্র সর্দি-কাশির সমস্যা থাকলে খুব ভোরে বা রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। এসব ক্ষেত্রে কলা শ্লেষ্মা তৈরি বাড়াতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী

কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কলা না খাওয়াই নিরাপদ।

কখন ও কীভাবে কলা খাবেন?

শীতকালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে কলা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। রোদ ওঠার পর খেলে হজমের সমস্যা কম হয়। খুব ভোরে খালি পেটে কলা না খাওয়াই উত্তম। দই, ওটস বা হালকা খাবারের সঙ্গে কলা খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়।

শীতে পরিমিত ও সঠিক নিয়মে কলা খেলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা নেই। বরং এটি শরীর ও মনের জন্য নানা উপকার বয়ে আনে। তবে শারীরিক কোনো জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর