[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

শীতে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে যা করবেন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:২৯ পিএম

শীতকাল সাধারণত আরামদায়ক হলেও এ সময়ে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 অনেকেই মনে করেন ডিহাইড্রেশন শুধু গরমের সমস্যাই, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে শীতকালেও এটি নীরবে দেখা দিতে পারে। পার্থক্য শুধু একটাই—শীতকালে এর লক্ষণগুলো ধীরে প্রকাশ পায়, ফলে অনেক সময় বোঝাই যায় না।


কেন শীতে পানিশূন্যতা হয়


শীতের বাতাস সাধারণত শুষ্ক থাকে। ঘরের হিটার বা গরম পরিবেশ বাতাসের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে শরীর থেকে সামান্য করে পানি বেরিয়ে যায়। এ ছাড়া ঠান্ডার কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে, যাকে বলা হয় ‘কোল্ড ডিউরেসিস’। ভারী পোশাক পরা, শারীরিক চলাচল কমে যাওয়া এবং কম পানি পান করার অভ্যাস মিলিয়ে শরীর সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে।


ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণ


শীতে পানিশূন্যতার লক্ষণ শুরুতে খুব হালকা হয়—ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক প্রাণহীন লাগা, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, প্রস্রাব কম হওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া। অনেকেই এগুলোকে সাধারণ শীতকালীন অবসাদ ভেবে অবহেলা করেন।


সকালে উষ্ণ পানি পানের অভ্যাস


দিন শুরু করুন এক গ্লাস কুসুম গরম পানি দিয়ে। এতে পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং শরীর পানি গ্রহণের সংকেত পায়। একবারে বেশি পানি না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করুন। চোখের সামনে পানির বোতল রাখলে পানি পানের কথা সহজে মনে থাকে।


উষ্ণ তরল খাবার গ্রহণ


শীতকালে ঠান্ডা পানি পান করতে ইচ্ছা না হলেও শরীরের তরল চাহিদা কমে না। ভেষজ চা, পরিষ্কার স্যুপ, কুসুম গরম লেবু পানি কিংবা ঝোলজাত খাবার শরীরকে হাইড্রেট রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এগুলো গলা ও হজম প্রক্রিয়াতেও আরাম দেয়।


খাবারের মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণ


শুধু পানীয় নয়, অনেক খাবার থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় পানি পায়। মৌসুমি ফল, সবজি, ডাল, স্যুপ ও স্টুতে প্রচুর প্রাকৃতিক পানি থাকে। এসব খাবার শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা শীতে শক্তি ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য জরুরি।


পানিশূন্যতা নজরে রাখা জরুরি


চা ও কফি অতিরিক্ত খেলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যেতে পারে। পুরোপুরি বাদ না দিলেও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা ভালো। এক কাপ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এক গ্লাস পানি বা উষ্ণ তরল পান করার চেষ্টা করুন।


শেষ কথা


শীতকালে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা কঠিন নয়। নিয়মিত পানি পান করা, উষ্ণ তরল গ্রহণ, পানি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুললেই এই সমস্যা সহজে এড়ানো সম্ভব।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর