শসা এমন একটি সবজি যা সহজেই পাওয়া যায় এবং সারা বছরই বাজারে থাকে। হালকা স্বাদ ও
উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে এটি সব বয়সের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। শসা কাঁচা খাওয়া যায়, রান্নার ঝামেলা নেই—এ কারণেই এটি সালাদ বা হালকা নাস্তা হিসেবে বেশ উপযোগী। বিশেষ করে গরমকালে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে শসার জুড়ি নেই।
নিয়মিত শসা খেলে শরীরের নানা উপকার হয়।
এতে থাকা প্রচুর পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। ত্বক, হাড় ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতাতেও শসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শসার রস, ডিটক্স পানি কিংবা সাধারণ সালাদ—যে কোনোভাবেই খাওয়া হোক না কেন, প্রতিটি উপাদানই শরীরের জন্য উপকারী। তাই খাবারের সঙ্গে শসা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
শসার পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় পাওয়া যায়—
ক্যালরি: প্রায় ১৫
প্রোটিন: ০.৬ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৩.৭ গ্রাম
ফ্যাট: প্রায় নেই
খাদ্যআঁশ (ফাইবার): ০.৬ গ্রাম
এ ছাড়াও শসায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
শসা খাওয়ার উপকারিতা
শরীর হাইড্রেট রাখে:
শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে খুব কার্যকর, বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে বা পরিশ্রমের পর।
হজম শক্তিশালী করে:
শসায় থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
কম ক্যালোরি ও বেশি পানি থাকার কারণে শসা পেট ভরাতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে:
শসায় চিনি প্রায় নেই বললেই চলে, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ খাবার এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো:
ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে শসা চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
অনেকে শসা লবণ দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত লবণ শসার প্রাকৃতিক উপকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই সম্ভব হলে লবণ ছাড়া বা অল্প লবণ দিয়ে শসা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
এসআর
মন্তব্য করুন: