লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র চাপের মুখেও পিছু
হটেনি ইসরায়েল। উল্টো দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের দৈনিক পত্রিকা ‘মারিভ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ সূত্রের বরাত দিয়ে মারিভ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে নিজেদের নজরদারির আওতায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন এলাকায় এই সেনাপোস্ট বা ঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সূত্রগুলো।
অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি ও ট্রাম্পের অসন্তোষ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূলের লক্ষ্যে গত ২ মার্চ থেকে সেখানে বড় আকারের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৩৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২২৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১০ লাখ মানুষ।
ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর চরম অসন্তুষ্ট। ট্রাম্প অবিলম্বে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও নেতানিয়াহু তা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। এই ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুকে একাধিকবার কড়া ভাষায় ধমক ও হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হলেও, ইসরায়েল দৃশ্যত তা উপেক্ষা করেই লেবাননের মাটিতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তির রূপরেখা!
এই সংঘাত নিরসনে মার্কিন মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিকবার সংলাপ হয়েছে। সম্প্রতি ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকেও দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক ও শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক শান্তি চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, লেবাননের দুটি এলাকায় পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট’ প্রকল্প হিসেবে আইডিএফের কয়েকটি দল অবস্থান করবে। বাকি সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে এবং সবশেষে ‘পাইলট’ এলাকা থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের তোড়জোড় সেই শান্তি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এসআর