মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির প্রধান ফেতিহ বাইরল জানান, দেশভেদে এই পুনরুদ্ধারের সময়সীমায় ভিন্নতা থাকবে। যেমন—সৌদি
আরবের তুলনায় ইরাকের উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে বেশি সময় প্রয়োজন হবে।
এদিকে জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কেবল তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতেই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এই ক্ষয়ক্ষতির প্রাক্কলন ২৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্রে দেখা যায়, রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া শিল্প, বিদ্যুৎ ও পানিশোধন অবকাঠামো মেরামতে আরও ৩ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। দেশভিত্তিক হিসেবে ইরানের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি অবকাঠামোতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত হলেও সেখানকার প্রযুক্তিগত জটিল মেরামতের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল বিদ্যমান সক্ষমতা ফিরিয়ে আনবে, নতুন কোনো উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করবে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসআর