[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

গত বছর ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০১ এএম

২০২৫ সালে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্র কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ভূমধ্যসাগর


 রুটে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথ ও স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৬ শতাংশ কম। তবে শুধু ভূমধ্যসাগর রুটেই ইউরোপে পৌঁছেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন, যাদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশিরা শীর্ষে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে মিসর এবং তৃতীয় স্থানে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।


সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এবং ২০২১ সালের পর এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবু ইউরোপের সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতার কারণে অভিবাসনের চাপ যে কোনো সময় এক রুট থেকে অন্য রুটে সরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ফ্রন্টেক্স।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুট ছিল ইউরোপে প্রবেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পথ। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।


অন্যদিকে, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম বলকান রুটে অবৈধ প্রবেশের হার সামগ্রিকভাবে কমেছে।

তবে পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছানোর ঘটনা আগের তুলনায় তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এই পথে মোট ৫১ হাজার ৩৯৯ জন ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যাদের বড় অংশ আফগানিস্তান, সুদান ও মিসরের নাগরিক।


পশ্চিম আফ্রিকা রুটেও সামগ্রিকভাবে অবৈধ অভিবাসনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। পশ্চিম ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে আলজেরিয়া, সোমালিয়া ও মরক্কোর নাগরিকরা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিলেন।


ফ্রন্টেক্স আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী জুন মাসে নতুন মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হবে। পাশাপাশি চালু হবে নতুন এন্ট্রি–এক্সিট সিস্টেম এবং ভ্রমণ অনুমোদন সংক্রান্ত ব্যবস্থা।


সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সাগরপথে অভিবাসনের সংখ্যা কমলেও ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১ হাজার ৮৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর