[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে সরকার

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৯:৫৬ এএম

অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ভিসা

 

 বন্ড আরোপের এক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার আশায় থাকা বহু মানুষের স্বপ্নে বড় ধাক্কা এসেছে।


সরকার এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপালসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।


কনস্যুলেট ও দূতাবাসে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা—যেমন খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা বা চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে মনে হলে তার ভিসা আবেদন বাতিল করা যাবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অন্তত এক লাখ ৮০ হাজার মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন রাজনীতিকও কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো একটি জাতিগোষ্ঠীর ওপর চাপানোর প্রবণতার বিরোধিতা করেছেন।


আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠক বাংলাদেশি–আমেরিকান আইনজীবী মঈন চৌধুরী এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, যাদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র আজ শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, সেই মানুষদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়া মানবিকতার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিসা স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের পেছনে কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা একটি সমন্বিত কর্মকৌশল নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।


তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা বেশি কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর হার তুলনামূলক উঁচু, অথবা যেসব দেশের নাগরিকরা গিয়ে সামাজিক সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন—তাদের লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত, এবং এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণ করাই এখন মূল লক্ষ্য।
আপনি চাইলে এটিকে

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর