ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ভ্রমণ বিষয়ে
নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে যেকোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভাব্য বিঘ্ন ও ঝুঁকির বিষয়টি সামনে রেখে ব্যক্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া’ ইসরাইল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।
ইরানের পরিস্থিতি ও হুঁশিয়ারি
ইরানে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ, ফলে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের ভূখণ্ড ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা। তার হুঁশিয়ারির ঠিক একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইসরাইল ভ্রমণ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
নাগরিক প্রত্যাহারের আহ্বান
চলমান উত্তেজনার কারণে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: