ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দেশটিতে
নিজেদের দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে লন্ডন।
বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তেহরানে অবস্থানরত দূতাবাসের সব কূটনীতিক ও কর্মীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে। আপাতত দূরবর্তী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে।
ভ্রমণ সতর্কতায় ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। যারা ইতোমধ্যে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘাত চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছে। এই আন্দোলনের পেছনে মূলত দেশটির চরম অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রিয়েলের দর দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজারের কাছাকাছি।
এর ফলে দেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে তীব্র দুর্ভোগ। এই অবস্থায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই দেশব্যাপী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ ইরানের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।
বিক্ষোভ দমনে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে।
এসআর
মন্তব্য করুন: