কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বাস্তবতায়
দেশজুড়ে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা ও মানসিক চাপ বিরাজ করছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতের পর থেকেই ইরানের মানুষের মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক কাটেনি। তার মতে, নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেককে চিন্তিত করে তুলেছে, যা সরাসরি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় মুদ্রার বড় ধরনের দরপতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন।
ধীরে ধীরে সেই প্রতিবাদ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে যে বিক্ষোভ চলাকালে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তারা শহীদ ফাউন্ডেশনের প্রধানের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, এসব মৃত্যুর জন্য সশস্ত্র ও তথাকথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দায়ী।
সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সহিংসতায় ১০০ জনের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তারা ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী এবং অন্তত ১৫০ জন নিরাপত্তা সদস্য ও সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে টানা ১৪৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার জানায়, তাদের হাতে এমন প্রমাণ এসেছে যা ইঙ্গিত দেয়—গত সপ্তাহে ইরানে নজিরবিহীন মাত্রায় ব্যাপক ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব ঘটনায় মূলত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারীরাই লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই করা ভিডিও ও অডিও ফুটেজে দেখা গেছে—অনেকে মাথা ও চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: