ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে এক তরুণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের
সম্ভাবনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তবে তার পরিণতি “খুবই কঠিন” হতে পারে।
একটি মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়টি তিনি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার ভাষায়, হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পর এখন মৃত্যুদণ্ডের কথা শোনা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক যুবকের বিচার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে শেষ হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, খুব শিগগিরই তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। কারাজ শহরের এই বাসিন্দাকে বিক্ষোভ চরমে ওঠার সময় আটক করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনে আবারও দ্রুত বিচার ও ইচ্ছামতো মৃত্যুদণ্ডের পথ বেছে নিতে পারে। নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্যমতে, গত বছর দেশটিতে কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার পাঁচশ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে একাধিক শিশুও রয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত আঠারো হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি দেশটির সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও প্রথমবারের মতো বড় ধরনের প্রাণহানির বিষয়টি স্বীকার করেছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বলেন, দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা স্থগিত রাখবেন।
এর জবাবে জাতিসংঘে ইরানের কূটনৈতিক মিশন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “পুরোনো ও ব্যর্থ কৌশল” বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশটির শাসনব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে রাশিয়া ইরানের ওপর মার্কিন চাপের সমালোচনা করে বলেছে, বহিঃশক্তিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাকে কাজে লাগাচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, টানা কয়েক রাতের বিক্ষোভের পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: