ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও তীব্র হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের
অঞ্চলে মারাত্মক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
দোহায় এক বক্তব্যে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বাড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। সে কারণেই কাতার কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয় কাতার, যার ফলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং তা এখনও বহাল রয়েছে।
বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। দীর্ঘদিনের মুদ্রা অবমূল্যায়ন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মূল্য ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সীমিত করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সংঘর্ষে বিপুল প্রাণহানির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করে বলেছে—দেশটির ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে জবাব দেওয়া হবে।
এই প্রেক্ষাপটে কাতার মনে করছে, উত্তেজনা কমাতে দ্রুত সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া না হলে গোটা অঞ্চল এক গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: