ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের
পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানে ধীরে ধীরে টেলিফোন যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ায় ভেতরের তথ্য এখন বাইরে আসতে শুরু করেছে। দেশটির অভ্যন্তরের একাধিক সূত্র এবং বিদেশে অবস্থানরত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে এই হতাহতের হিসাব করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন, হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হচ্ছে—বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। কোনো কোনো হাসপাতালে মরদেহের চাপ এতটাই বেশি যে মর্গে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না বলেও জানা গেছে।
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে নিহতের সংখ্যা আনুমানিক দুই হাজার বললেও, তিনি স্বীকার করেছেন প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও দাবি করেছে, তারা অন্তত ১২ হাজার বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করতে পেরেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ হাজারের মধ্যে।
গত কয়েকদিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে তেহরানের উপকণ্ঠের একটি হাসপাতালের মর্গে শত শত মরদেহ দেখা গেছে।
পরিস্থিতি এখনো অস্থির এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: