[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানি প্রায় দুই হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:১৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান।

এই সময়ের মধ্যে সহিংস পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলমান আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এটিই প্রথমবারের মতো দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য।


রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য— সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো হিসাব দেননি।


দেশটির ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকেই মূলত এই আন্দোলনের সূচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন বছরে এটি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি চাপের মুখে পড়ে তেহরান।


১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বৈত কৌশল অনুসরণ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে জনগণের ক্ষোভকে আংশিকভাবে যৌক্তিক বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দমন অভিযান অব্যাহত রেখেছে।


বর্তমান অস্থিরতার জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সরকারের অভিযোগ, কিছু অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।


রয়টার্স যাচাইকৃত সাম্প্রতিক কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ভিডিও ফুটেজে গুলির শব্দ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর