যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক শক্তি যাচাই করার চেষ্টা করে,
তাহলে তেহরান তা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত—এমন বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে ইরান পিছপা হবে না।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছে। তার ভাষায়, অতীতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় যে সামরিক প্রস্তুতি ছিল, বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, তাহলে ইরান তার জবাব দিতে সক্ষম। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের পথ বেছে নেবে।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থে যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চায়, তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।
দেশের ভেতরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান আন্দোলনের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে। তার দাবি, এই গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই শুরু হওয়া আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এসব বিক্ষোভ দেশজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি ইরান সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার সরকার জনগণের দাবি ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
এসআর
মন্তব্য করুন: