ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর একটি রকেট উৎক্ষেপণের
মুখে পড়ে নির্ধারিত কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে একটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহসহ মোট ১৫টি স্যাটেলাইট ছিল।
ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার ধাপবিশিষ্ট পিএসএলভি-সি৬২ উৎক্ষেপণযানটি তৃতীয় ধাপের শেষ পর্যায়ে গিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। তবে ঠিক কী ধরনের ত্রুটির কারণে রকেটটি পথচ্যুত হয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরো।
উৎক্ষেপণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সময় রকেটটিকে স্বাভাবিকভাবেই আকাশে উঠতে দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই এর গতিপথে সমস্যা দেখা দেয়। ইসরোর প্রধান ভি. নারায়ণন রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দূরদর্শনকে জানান, তৃতীয় ধাপের শেষ দিকে যানটিতে অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়, যার পরই উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাহন হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি রকেট এর আগেও বহু গুরুত্বপূর্ণ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রথম চন্দ্র অভিযান ও মঙ্গল কক্ষপথযান উৎক্ষেপণেও এই রকেট ব্যবহৃত হয়েছিল। এমনকি ২০১৭ সালে একক মিশনে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে পিএসএলভি।
সোমবারের এই মিশনে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের জন্য বহন করা উপগ্রহগুলোর মধ্যে একটি ছিল পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। তবে হঠাৎ ঘটে যাওয়া ত্রুটিকে ইসরোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত এক দশকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মহাকাশ কর্মসূচির পরিসর ও সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে দেশটি। ২০২৩ সালের আগস্টে চাঁদে সফলভাবে মনুষ্যবিহীন যান অবতরণ করিয়ে ভারত ইতিহাস গড়ে। পরের বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত।
এসআর
মন্তব্য করুন: