যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে তার
দেশ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউনেসকো, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলি দুর্বল হবে, এবং বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জলবায়ু উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এসব সংস্থা “আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ” এবং “অকার্যকর ও বৈরি এজেন্ডা অনুসরণ করছে।” সরে যাওয়ার সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইউএনএফসিসিসি (জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন)
আইপিসিসি (ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ)
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল, ইউএন ইউনিভার্সিটি
আন্তর্জাতিক সৌর জোট, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম, গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরাম
বাংলাদেশে এই প্রভাব বড় হতে পারে কারণ ২০১৮ সাল থেকে দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মার্কিন সহায়তা পেত। অর্থটি খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও রোহিঙ্গা সহায়তায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ার পর রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া অন্যান্য খাতগুলোতে অর্থায়ন কমে গেছে, এবং ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে জলবায়ু ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থদাতা হিসেবে সরে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে ধাক্কা দেবে এবং অন্য ধনী দেশগুলোরও অর্থায়ন কমানোর প্রবণতা বাড়াতে পারে, যা বৈশ্বিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভাজন বাড়াবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: