ইরানে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখন
পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬ শতাধিক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক কল পরিষেবা বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের চাপে অনেক হাসপাতাল কার্যত ভরে গেছে। তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, মর্গে জায়গার সংকটের কারণে নতুন মরদেহ গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারিভাবে এখনো নিহত বা আহতের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ইরান সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় হতাহতের সংখ্যা যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মূলত চরম অর্থনৈতিক সংকট থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নে ইরানি রিয়েলের দর ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে, যা মুদ্রাটিকে বিশ্বের দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
মুদ্রার এই পতনের ফলে দেশজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডাকেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়ে দ্রুতই ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং কঠোর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনীতি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং জনগণের দাবি শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: