[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা, হতাহতে ভরে গেছে ইরানের হাসপাতালগুলো

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৪৭ এএম

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে নিরাপত্তা

বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র রূপ নেওয়ার পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
তবে শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ও আহত মানুষের চাপে তাদের হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী তরুণদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছে। অনেকের হৃদপিণ্ডেও গুলি লাগার ঘটনা দেখা গেছে।
একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, আহত মানুষের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে হাসপাতালকে জরুরি ‘ক্রাইসিস মোডে’ পরিচালনা করতে হয়েছে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
এই সহিংসতায় বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের নিহতের সংখ্যা ১৪ জন বলে জানা গেছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত দুই হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এদিকে বিবিসি ফার্সি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে উত্তর ইরানের রাশত শহরের পোরসিনা হাসপাতালে ৭০টি মরদেহ আনা হয়। হাসপাতালের মর্গ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।
তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, এত বেশি আহত মানুষ একসঙ্গে আসছিল যে অনেক ক্ষেত্রেই সিপিআর দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে আনার পরপরই তার সামনে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর