[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

টানা দুই রাত তীব্র আন্দোলন

ইরানে মসজিদে আগুন, বিপ্লব পূর্ববর্তী পতাকা উড়াল বিক্ষোভকারীরা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৫৪ এএম

টানা দুই রাতের তীব্র বিক্ষোভ ইরানে মসজিদে অগ্নিসংযোগ, রাজতন্ত্রের পতাকা নিয়ে রাজপথে প্রতিবাদ

রাজতন্ত্রের পতাকা নিয়ে রাজপথে প্রতিবাদ
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরপর দুই রাত ধরে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। এসব বিক্ষোভের মধ্যে তেহরানের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গেছে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কার পতাকা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাদান নামের ৬০ বছর বয়সী এক নারী জানান, তিনি টানা দ্বিতীয় রাতও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নেন। তেহরানের সা’দাত আবাদ এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, তিনি নিজ চোখে বিক্ষোভকারীদের একটি মসজিদে আগুন দিতে দেখেছেন।
শুধু তেহরান নয়, বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ ও ইয়জদসহ একাধিক শহরে।
বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর কামনা করে এবং রাজতন্ত্র তথা শাহ শাসনব্যবস্থার পক্ষে স্লোগান উচ্চারণ করেন।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাধারণ জনগণকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষভাবে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়, তারা যেন সন্তানদের রাস্তায় নামতে না দেন। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়— যদি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে দায় নেওয়া হবে না।
ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করা ও সরকারি সতর্কতা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যান।
তেহরান থেকে আমির রেজা নামের ৪২ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী জানান, তিনি গুলির শব্দ ও সাউন্ড বোমার বিস্ফোরণ শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাদা পোশাকধারী মিলিশিয়া ও পুলিশ গুলি ছুড়তে শুরু করলে তিনি নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে ফিরে যান। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন শুরু করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়। টানা ১৩ দিন ধরে চলমান এই বিক্ষোভ নিয়ে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শুধু তেহরানেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এই সহিংস পরিস্থিতির জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটি অভিযোগ করে বলেছে, মার্কিন প্ররোচণার ফলেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার চরম সংকটে রয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর