[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশে ন্যাটোর শক্তিশালী ৬ দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:৩৭ এএম

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

দখলসংক্রান্ত বক্তব্যের পর ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একযোগে অবস্থান নিয়েছে ন্যাটোভুক্ত ছয়টি শক্তিশালী ইউরোপীয় দেশ। ডেনমার্কসহ মোট সাত দেশের সরকারপ্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কেরই রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
এর আগের দিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, কোনো ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ন্যাটোর অস্তিত্ব ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে তিনি ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা বলেন, যা ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেন, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি সম্মান বজায় রাখা বিশ্বব্যাপী একটি মৌলিক নীতি। আর্কটিক অঞ্চল ইউরোপ ও ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর অংশ হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার আলোকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড প্রায় তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে। প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৬ হাজার। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতির দায়িত্ব ডেনমার্কই বহন করে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর