হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ নানা মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছে বলে বাংলাদেশ শিশু
হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আইসিডিডিআর,বি-র যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে। হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৪ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, এদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টির শিকার—যার মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি ধরনের অপুষ্টিতে ভুগছিল।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ পায়নি। বিশেষ করে, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই শৈশবের শুরুতে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পান করা থেকে বঞ্চিত ছিল।
টিকা নেওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়মিত টিকার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম) এমন ১৪৬ জন শিশুর মধ্যে ১৪২ জন এবং টিকার বয়স হওয়া সত্ত্বেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ জনের মধ্যে ১২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই হার কেবল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়া, অপুষ্টি বা সময়ের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো দায়ী হতে পারে, যা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় গবেষণার এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাশিহাই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এছাড়া স্বাস্থ্য খাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নিয়ে অপুষ্টি রোধ ও সময়মতো টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এসআর