চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল জুলাই মাসে।
এ মাসেই সর্বোচ্চ ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ জন ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৬৯ জন, বরিশালে ৪ জন এবং খুলনায় ৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ হাজার ৩১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় রোগটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ২০৬ জন এবং মারা গেছেন ৩৬ জন।
চলতি সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু ছাড়াও নতুন করে ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।
মৃত্যুর হিসাবে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ১ জন এবং জুনে ১৩ জন মারা যান।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন চার শতাধিক মানুষ। আর ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।
এসআর